অধ্যায় ২

সুরক্ষিত শহর নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী কী

— সুরক্ষিত শহর নিয়ে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গী কী?

সুরক্ষিত শহরের ধারণা নিয়ে গবেষণা প্রকল্পে আমরা সিসজেন্ডার মহিলা এবং ট্রান্স-কুয়ার মানুষদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তাঁদের সুরক্ষিত নগরের ধারণা নিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং আমরা যা শুনেছি তা হল

যেখানে সিস এবং ট্রান্স মহিলাদের যেখানে সেখানে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকবে তাকেই নিরাপদ শহর বলব। যেখানে তারা দিন ও রাত্রির যেকোনো সময়েই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে তাদের সম্মান নিয়ে এবং যেখানে কোন নিরাপত্তার আশঙ্কা থাকবে না। আমাদের গবেষণায় অংশগ্রহণকারী একজন এই পরিস্থিতিকে বিন্দাস (কেয়ার ফ্রি) বলে ব্যাক্ত করেছে। একটি নিরাপদ শহর সেটিই যেখানে মহিলারা যেকোন কারণেই বাড়ির বাইরে আসতে পারে, এমনকি যদি সেটা খুব সম্মানজনক ও না হয়, যেমন কাজে বা স্কুলে যাওয়া। কোন বিধি নিষেধ ছাড়া যেখানে খুশি তারা ঘুরে বেড়াতে পারে, কারোর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্যও তারা বাধ্য নয়। ‘তেরা বাপ কা ক্যায়া জাতা ম্যায় কাহা খড়ি রহু, কাহা ব্যয়ঠু, ক্যায়া করু? (আমি, কোথায় দাড়াই, কোথায় বসি, কী করি কার তাতে কী যায় আসে?)

একটি নিরাপদ শহর হল এমন জায়গা যেখানে সিস, ট্রান্স, কুয়ার, লেসবিয়ান, প্রবিবন্ধী কোন মহিলাই কোন নজরদারি বা নীতি পুলিশির অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে না। যেখানে তারা নিজেদের পছন্দমত জামাকাপড় পরতে ও প্রসাধন করতে পারবে। জেন্ডার, যৌন অভিমুখিতা, বর্ণের উর্দ্ধে উঠে তারা নিজেদের ভালবাসার মানুষের হাত ধরতে পারবে। যেখানে তাদের কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না বা শাস্তি পেতে হবে না নিজের পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের কাছে নিজেদের পছন্দ বেছে নেওয়ার জন্য। ‘একটি নিরাপদ শহর হল এমন জায়গা যেখানে মানুষকে তাদের জেন্ডার পরিচয়ের জন্য, যৌন অভিমুখিতার জন্য, বর্ণ পরিচয়ের জন্য বিচারাধীন করা হবে না’।

একটি নিরাপদ শহর হল সেই জায়গা যেখানে মহিলাদের যখন সাহায্যের প্রয়োজন তখন সময়মত ও কার্যকারীভাবে সেই সাহায্য তারা পাবেন। যখনই তারা সহিংসতার মুখোমুখি হবে তাদের অভিযোগ জানানোর জায়গা থাকবে যেমন হেল্পলাইন। পুলিশ আধিকারিকরা সংবেদনশীলতার সঙ্গে গুরুত্ব সহকারে তাদের অভিযোগ নেবেন এবং তাদের যৌন পরিচয়ের জন্য কলঙ্কিত করবেন না। যেখানে সর্বজনীন আশ্রয় গৃহ থাকবে সেই সমস্ত মানুষদের জন্য যারা বাড়িতে সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সহিংসতা থেকে বেঁচে আসা মানুষদের জন্য যেখানে সর্বাত্মক, ট্রমা-ইনফর্মড, সময়মত স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যাবস্থা থাকবে।

একটি সুরক্ষিত শহর সেটি যেখানে দেখাশুনো করার সুবিধে অ্যান্ড প্রাথমিক পরিকাঠামোর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায়শ মহিলারা প্রকাশ্যে একা যাতায়াত করেন না। মহিলারা তাদের সন্তান্দের সঙ্গে বাইরে যান তাঁদের যত্ন করার জন্য, বয়সকালে তাদের উপরেই নির্ভর করতে হয়। “পথচারীর দৃষ্টিকোন থেকে, একটি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, শহরের পরিকল্পনা করতে হবে”। একটি নিরাপদ শহর হল যেখানে পর্যাপ্ত পরিমানে রাস্তায় আলো থাকবে, গণপরিবহনের অভিগম্যতা ও প্রতিবন্ধী বান্ধব রাস্তা থাকবে।

একটি সুরক্ষিত শহরের পরিকল্পনায় ডিজিটাল নজরদারি কোথায় উপযুক্ত? নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নজরদারির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে নজরদারির বিরুদ্ধে। আবার অনেকে অপরাধ তদন্তের জন্য নজরদারির ধারণাকে স্বাগত জানায় ব্যবহারের প্রাসঙ্গিকতাকে লক্ষ্য রেখে। সকলেই একমত যে এই জটিল সমস্যার সূক্ষ্মতা বিচারের জন্য বিস্তৃত গণ আলোচনা প্রয়োজন, এবং সেই আলোচনায় তৃনমূল স্তরের সম্প্রদায়কে সামিল করতে হবে, এবং এই আলোচনা কখনোই সমাজের অভিজাত অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

‘আমার মনে হয় নিরাপদ শহরের ভূমিকায় নজরদারির ভূমিকা রয়েছে। আমার সঙ্গে সহিংসতা হয়েছে। আমি ধর্ষিত হয়েছি, তাই আমরা যদি শক্তিশালী হই তখনই আমরা পুলিশের কাছে গিয়ে সেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য চ্যালেঞ্জ করতে পারব, কারণ সেই দুর্ঘটনা আমার সঙ্গে সেই এলাকায় ঘটেছে, তাই সেই তথ্য প্রমাণের জন্য সিসিটিভি প্রয়োজন। কিন্তু পাশাপাশি আমাদের দেখতে হবে কতটা আমরা সেটির উপর নির্ভর করতে পারি, আর কতটা নয়। এই বিষয়ে আরও অনেক আলোচনা ও বিতর্কের প্রয়োজন আছে, তবেই আমরা একটি সমাধান খুঁজে পাব’।
বিন্দু,
ট্রান্স সেক্স ওয়ার্কার